একদিকে আনন্দ মিছিল (বামে), অন্যদিকে বিক্ষোভ মিছিলে নেতাকর্মীরা।
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা ও পৌর বিএনপির সদ্য ঘোষিত আহ্বায়ক কমিটি নিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মাথাচাড়া দিয়েছে। এ কমিটি ঘিরে পাল্টাপাল্টি অবস্থান নিয়েছে দলটির দুই পক্ষ। এর মধ্যে একটি পক্ষ আনন্দ মিছিল করেছে নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে; অন্যটি কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।
মিছিল চলাকালে ঘটেছে মারামারির ঘটনা, শোনা গেছে বিস্ফোরণের শব্দ। এই পরিস্থিতিতে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) পদ পাওয়া দুই নেতাকে বুধবার কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার আবারও ঘটেছে পাল্টাপাল্টি মিছিলের ঘটনা।
শোকজ প্রাপ্ত দুই নেতা হলেন- সদ্য ঘোষিত কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক আবদুল হান্নান লিটন ও ফারুক বাবুল। তাদের তিনদিনের মধ্যে তারা সশরীরে হাজির হয়ে বক্তব্য উপস্থাপনের জন্য নির্দেশ দিয়েছে জেলা নেতৃবৃন্দ।
বুধবার জেলা বিএনপির সভাপতি মাহবুব আলমগীর আলো ও সদস্যসচিব হারুনুর রশিদ আজাদ সাক্ষরিত এক চিঠিতে তাদের শোকজের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে টানা তৃতীয় দিনের মতো সেনবাগ শহরে কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে একটি পক্ষ। সেনবাগ উপজেলা পরিষদ চত্বরের দলীয় অফিস থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব কাজী মফিজুর রহমানের অনুসারীরা মিছিলটি বের করেন। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। শেষে শহরের থানার মোড়ে এক সমাবেশে উপজেলা বিএনপি যুগ্ম-আহবায়ক (অব্যাহতিপ্রাপ্ত) গোলাম হোসেন বক্তব্য রাখেন। এর আগে তাদের মিছিল চলাকালে শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের শব্দও শোনা গেছে। এতে মানুষজনের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি।
এদিকে, বৃহস্পতিবার বিকেলে কমিটি ঘোষণায় বিশাল আনন্দ মিছিল করেছে বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের অনুসারীদের একটি অংশ। মিছিলে নেতৃত্ব দেন সদ্য ঘোষিত উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোক্তার হোসেন পাটোয়ারী ও সেনবাগ পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. শহীদ উল্ল্যাহ। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সেনবাগ পুরাতন সাব রেজিস্ট্রি অফিস এলাকা থেকে বর্ণাঢ্য আনন্দ মিছিলটি বের হয়। এ সময় মিছিলটি শহরের দক্ষিণ বাজার প্রদক্ষিণ করে শহরের থানার মোড়ে এক সমাবেশে মিলিত হয়।
দলীয় নেতাকর্মীরা বলছেন, কমিটি ঘিরে বিএনপির দ্বন্দ্ব একেবারেই প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে। সোমবার রাতে কমিটি ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এর পক্ষে-বিপক্ষে সরব হয় নেতাকর্মীরা। দলের দুটি পক্ষ কমিটি বাতিলের দাবি জানিয়ে পৃথকভাবে বিক্ষোভ করেছে। অপর একটি পক্ষ নতুন কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আনন্দ মিছিল করেছে। আনন্দ মিছিলে অংশ নেওয়া কর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন আহত হন।
বিএনপির সদস্যসচিব ও নোয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র হারুনুর রশিদ গণমাধ্যমকে বলেন, আহ্বায়ক কমিটির কোনো সদস্যকে নিয়ে কারও যদি কোনো আপত্তি থাকে, সে ক্ষেত্রে লিখিতভাবে জানাতে পারেন। কিন্তু সেটি না করে এভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিক্রিয়া দেখানো খুবই দুঃখজনক। বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ব্যবস্থা নেবে জেলা বিএনপি।

Leave a Reply