পানির অভাবে দুই হাজার একর আমন ধান ঝুঁকিতে

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার টুংগিবাড়িয়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকা স্লুইস গেটের কারণে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। পানি ধরে না রাখতে পারায় প্রায় দুই হাজার একর জমির আমন ধান এখন হুমকির মুখে। অনেক জমির ধানগাছ শুকিয়ে যাচ্ছে, শীষ বের হচ্ছে না—ফলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

টুংগিবাড়িয়া গ্রামের কৃষক মো. জাবের হাওলাদার বলেন, “আশায় ধান লাগাইছি। কিন্তু গেটটা নষ্ট, পানি ধরে না। জমি শুকনা হয়ে গেছে। এখন ধান তো চোখেই পড়ছে না, গাছ শুকায়া যাচ্ছে।”

কাটাখালী গ্রামের কৃষক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, “গত বছরও এই সময় পানি ধরে রাখতে পারছিলাম, ভালো ধান হয়েছিল। এবার স্লুইস গেটের ভরসায় ছিলাম, কিন্তু কেউ আসে না, দেখে না। একাধিকবার বলছি, কাজ হয় না।”

সরেজমিনে দেখা গেছে, স্লুইস গেটটির কপাট ভাঙা এবং দীর্ঘদিন ধরে কোনো সংস্কার হয়নি। ফলে খালের পানি ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। মাঠের পানি দ্রুত নেমে যাচ্ছে, এতে ধানের শীষ বের না হওয়া ছাড়াও গাছ ঝরে পড়ছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মো. নরছু মৃধা বলেন, “কৃষকরা আমাদের জানিয়েছে, আমরাও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।”

এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, প্রতি কৃষি মৌসুমেই স্লুইস গেট নিয়ে এমন সমস্যা হয়, কিন্তু প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড তাতে তেমন গুরুত্ব দেয় না।

স্থানীয় সচেতন মহল এবং কৃষকরা দ্রুত স্লুইস গেট সংস্কার ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের মতে, এতে যেমন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি কৃষকরাও স্বস্তি ফিরে পাবেন।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *