ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেছেন, ‘পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ফ্যাসিস্ট তৈরি করেছিল। জুলাই অভ্যুত্থানের পরে আমরা সেই বন্দোবস্ত বহাল রাখতে পারি না। তাহলে জুলাইয়ের শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়। তাই পুরনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাতিল করতেই হবে।
সে জন্য প্রথম ও জরুরি পদক্ষেপ হলো পিআর পদ্ধতির নির্বাচন। পিআর হলেই ভোটে নয়ছয় করে কেউ সংসদের অসীম ক্ষমতার মালিকও হতে পারবে না, সংবিধান কাটাছেঁড়া করে স্বৈরতন্ত্রও প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না।’
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত নিয়মিত বৈঠকে দলের মহাসচিব এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘এত রক্তের নজরানায় কেনা জুলাই অভ্যুত্থানের সনদের আইনি ভিত্তির জন্য এবং গণহত্যাকারীর বিচারের জন্য আবারো রাজপথে মিছিল করতে হবে, আন্দোলন করতে হবে তা আমরা কল্পনাও করতে পারি নাই।
কিন্তু এই সরকারের অদূরদর্শী চিন্তা ও আপসকামী মনোভাবের কারণে আমাদের সেই পথে হাঁটতে হচ্ছে। আমরা বুঝতে পারি না, যে বন্দোবস্ত দেশে বারবার স্বৈরতন্ত্র জন্ম দিয়েছে, যেই বন্দোবস্ত হাসিনার মতো ফ্যাসিস্ট জন্ম দিয়েছে সেই বন্দোবস্তে নির্বাচন আয়োজন করার এত তাগিদ কোথা থেকে আসে? এক বছর অতিক্রান্ত হতে না হতেও বাচ্চাদের রক্ত ও জীবনকে এভাবে উপেক্ষা করার এই দৃশ্য আমরা সহ্য করতে পারছি না। তাই সরকারকে বলব, অবিলম্বে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি নিশ্চিত করুন, গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার করুন, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজনের ব্যবস্থা নিন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিন এবং ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিচারের আওতায় আনুন, বিচারকালীন তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখুন।’অধ্যক্ষ ইউনুস আহমদ বলেন, ‘এগুলো কোনো রাজনীতি না, কোনো দলের বিপক্ষে অবস্থান না বরং এগুলো জনতার দাবি।
জনতার এই দাবি নিয়ে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামী শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সারা দেশের সব জেলা ও উপজেলায় গণমিছিল করবে। আমরা আশা করি, সরকারের বোধদয় হবে এবং জুলাইয়ের রক্ত স্বার্থকতা পাবে।’
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম, হাফেজ মাওলানা ফজলে বারী মাসউদ, মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম, সহকারী মহাসচিব প্রকৌশলী কেএম আতিকুর রহমান, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক, শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মুফতী কেফায়েতুল্লাহ কাশফী, কৃষি ও শ্রমবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক মাওলানা খলিলুর রহমান, সংখ্যালঘুবিষয়ক সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ মকবুল হোসাইন, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতী দেলাওয়ার হোসেন সাকী, খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তফা কামাল, ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম রুহুল আমীন, সহ-প্রচার ও দাওয়াহ্ বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা কেএম শরীয়াতুল্লাহ, সহ-দফতর সম্পাদক এডভোকেট বরকতুল্লাহ লতিফ, কেন্দ্রীয় সদস্য ডা. শহিদুল ইসলাম।
Leave a Reply