ক্রিকেট ব্যাটের দাম আকাশছোঁয়া, উদীয়মানদের স্বপ্নের পথে বাধা

দুই বছর আগের ঘটনা। আইপিএলের ম্যাচের আগে অনুশীলনে নতুন কয়েকটি ব্যাট হাতে পান রোহিত শর্মা। একটার পর একটা ব্যাট নক করে দেখেন। শেষে একটি তুলে সতীর্থকে বলে ওঠেন, ‘এটাই ঠিক আছে।

এটা দিয়েই বড় শট মারব।’ যেন যোদ্ধা নিজের অস্ত্র বেছে নিচ্ছেন। 

কিন্তু সেই অস্ত্র ‘ক্রিকেট ব্যাট’-এর দাম এখন হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় সমস্যা।

বিশ্বজুড়ে এখন লিগ ক্রিকেটের রমরমা।

দ্য হান্ড্রেড’ হোক বা দক্ষিণ আফ্রিকার লিগ, কিংবা আইপিএল—সবখানেই খেলোয়াড়দের ভিড়। প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ঢাকা, চট্টগ্রাম বা এর বাইরের একাডেমিগুলোয় প্রতিদিন দেখা যায় কিশোররা কাঁধে কিটব্যাগ নিয়ে ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্নে ছুটছে। 

লিগ ক্রিকেট যত বেড়েছে, ব্যাটের চাহিদাও তত বেড়েছে।

কিন্তু জোগান ততটা বাড়েনি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শীর্ষ ক্রিকেটাররা ‘ইংলিশ উইলো’ ব্যবহার করেন, আর উদীয়মানরা শুরু করে ‘কাশ্মীরি উইলো’ দিয়ে। কিন্তু এখন দু’ধরনের ব্যাটেরই দাম হু হু করে বেড়ে চলেছে।

 

বিশ্বে ইংলিশ উইলোর সবচেয়ে বড় উৎস ইংল্যান্ডের জেএস রাইট অ্যান্ড সন্স। তাদের মালিক জেরেমি রাগেলস জানান, একটি গাছ পরিণত হতে লাগে অন্তত ১২–২০ বছর।

২০ বছর আগে ১৫,০০০ চারা পুঁতেছিলেন তারা। সেগুলো থেকেই এখন ব্যাট বানানো হচ্ছে। গত বছর আরও ৪০,০০০ চারাগাছ রোপণ করেছে কম্পানিটি।

 

তবে তাদের অভিযোগ অন্যান্যরা সময়ের আগেই গাছ কেটে ফেলায় কাঠের মান কমে যাচ্ছে, ব্যাট তাড়াতাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। ফলে দাম বেড়েছে তিন গুণ।

একই অবস্থা কাশ্মীরি উইলো নিয়েও। অল্প বয়সের গাছ কেটে ফেলায় মান খারাপ হচ্ছে, আর ব্যাট বেশি দিন টিকছে না।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ বা খুলনার মতো বড় শহরের একাডেমিগুলোতে ভর্তি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। কিন্তু বাচ্চাদের অভিভাবকরা পড়ছেন বিপাকে। আগে যে ব্যাট ৩–৪ হাজার টাকায় মিলত, এখন ভালো মানের ইংলিশ উইলোর দাম ১৫–২০ হাজার টাকা। শুরুর কিট কিনতেই লাগে অন্তত ২০–২৫ হাজার।

ব্যাট ব্যবসায়ীরা বলছেন, সমস্যাটা আসলে জোগানে নয়, বরং দামে। বিশ্বজুড়ে স্পনসরশিপ চুক্তি, একচেটিয়া ব্যবসা আর কোভিড-পরবর্তী ক্ষতির চাপ সব মিলে ব্যাটের দাম চড়া।

তাদের ভাষ্য, পেশাদার ক্রিকেটারেরা তো ব্যাট খুব একটা কেনে না। স্পনসরদের কাছে পায়। তাই তাদের সমস্যা হয় না। স্পনসরশিপ চুক্তির আওতায় থাকা ক্রিকেটারের সংখ্যাও প্রতিদিন বাড়ছে। ফলে তাদের পেছনে যে টাকা সংস্থাগুলি খরচ করছে, তা তুলে নিতে ব্যাটের দাম বাড়াতে হচ্ছে।

ভারতের কলকাতার শ্যামবাজারের একটি স্পোর্টস শপে ব্যাট কিনতে গিয়ে মায়ের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিল ১১ বছরের অভিজ্ঞান। উইকেটরক্ষকের গ্লাভস আর ব্যাট মিলিয়ে খরচ দাঁড়াল প্রায় ১৫ হাজার টাকা। মা শুধু বললেন, ‘দাম অনেক। ছেলে অ্যাকাডেমিতে ভর্তি হবে বলে অনেক দিন ধরে বায়না করছে। ভর্তিও করেছি। স্বপ্নটুকু তো বাঁচিয়ে রাখতে হবে।’

আলিবাবাকে আবারও ‘শীর্ষে’ নিতে ফিরলেন জ্যাক মা

চীনের প্রযুক্তি খাতে বছরের পর বছর কঠোর দমন–পীড়নের সময় আলিবাবার ভেতরে একটাই স্লোগান ঘুরত, ‘মাগা: মেক আলিবাবা গ্রেট অ্যাগেইন’। এখন সেই স্বপ্ন পূরণে আলিবাবা ফিরিয়ে আনছে তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র—তাদের প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক মাকে।

২০২০ সালের শেষদিকে অ্যান্ট গ্রুপের আইপিও আটকে দেওয়া আর অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্ত শুরু হওয়ার পর জনসমক্ষে প্রায় অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। দীর্ঘ চার বছর পর আবার সরাসরি কোম্পানির ক্যাম্পাসে দেখা মিলছে চীনের সবচেয়ে পরিচিত উদ্যোক্তার।

আলিবাবার প্রতিদ্বন্দ্বী জেডি ডটকম ও মেইতুয়ানের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ ঘোষণার নেপথ্যে আছেন তিনিই। জেডি’র হঠাৎ বাজারে প্রবেশ ঠেকাতে প্রায় ৫০ বিলিয়ন ইউয়ান (৯ বিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার) ভর্তুকি দেওয়ার সিদ্ধান্তও এসেছে তার প্রভাবে।

কোম্পানির দৈনন্দিন কাজেও তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি যুক্ত হচ্ছেন। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রকল্পে প্রতিদিন আপডেট নিচ্ছেন, এমনকি এক কর্মকর্তাকে এক দিনে তিনবার মেসেজও করেছেন বলে জানা গেছে।

২০২০ সালে চীনা ঋণদাতাদের ‘পাওন শপ’ বা ‘বন্ধকী দোকান’ বলে সমালোচনা করার পর থেকেই তিনি রাষ্ট্রীয় রোষে পড়েন। অল্প সময়ের মধ্যেই দেশজুড়ে প্রযুক্তি ধনকুবেরদের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ নেমে আসে, আলিবাবা হারায় প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য।

এরপর থেকেই টোকিও ও হংকংয়ে সময় কাটালেও তার অনুপস্থিতি আলিবাবার ভেতরে মনোবল ভেঙে দিয়েছিল। তাই ২০২৩ সালে অ্যান্ট গ্রুপে ফিরে প্রথম ভাষণ দেওয়ার সময় অনেক কর্মী আবেগে কেঁদে ফেলেন।

একইভাবে এ বছরের এপ্রিল মাসে আলিবাবার ক্লাউড বিভাগে গিয়ে তিনি কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘প্রযুক্তি মানে শুধু মহাকাশ জয় নয়, প্রযুক্তি আমাদের ভেতরের আলো জ্বালিয়ে রাখারও নাম।’

আজকের চীনা ই-কমার্সে আর একচেটিয়া বাজার নেই আলিবাবার। খাবার ডেলিভারি ব্যবসায় এখন ৪৩ শতাংশ বাজার আলিবাবার নিয়ন্ত্রণে, যেখানে প্রতিদ্বন্দ্বী মেইতুয়ান এগিয়ে ৪৭ শতাংশ নিয়ে। এই প্রতিযোগিতায় দাম কমানো আর ভর্তুকির কৌশল আবারও কর্তৃপক্ষের নজরে পড়তে পারে।

তবু মার আস্থা রয়ে গেছে কোম্পানির মূল প্ল্যাটফর্ম তাওবাও–এর ওপর। শেয়ার পুনরুদ্ধারের সাম্প্রতিক সাফল্য তাকে আবারও বড় লড়াইয়ে নামতে উসকে দিয়েছে।

আলিবাবার চেয়ারম্যান জো সাই, সিইও এডি উ এবং নতুন প্রজন্মের তারকা জিয়াং ফান এখন তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী। এআই ও ক্লাউড অবকাঠামোয় আগামী তিন বছরে ৩৮০ বিলিয়ন ইউয়ান বিনিয়োগের ঘোষণা এসেছে তাদের কাছ থেকেই।

তবে অফিসিয়াল কোনো পদে ফেরার সম্ভাবনা নেই জ্যাক মা। ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়ানো জ্যাক মা কেবল একটি কর্মী ব্যাজ গলায় ঝুলিয়ে জানান দিচ্ছেন— তিনি ফিরেছেন।

চীনা উদ্যোক্তা চেন ওয়েইসিংয়ের ভাষায়, ‘তিনি ভাবছেন, এখনই সময় সন্ন্যাস ভেঙে আবার মঞ্চে নামার। যেন এক গংফু উপন্যাসের কাল্পনিক নায়ক, যিনি তার শেষ যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত।’

এর আগে ১৯৯৯ সালে ৮০ জন বিনিয়োগকারীর কাছ থেকে ৮০ হাজার মার্কিন ডলার সংগ্রহ করে যাত্রা শুরু করেন অনলাইন মার্কেটপ্লেস আলিবাবার। যার বাজার মূলধন এখন ৮০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে।