সমুদ্রতীরে অভয়ারণ্যের পরিকল্পনা চীনের, প্রতিবাদ ফিলিপাইনের

বিতর্কিত প্রবালপ্রাচীর স্কারবোরো শোলে চীনের পরিকল্পিত ‘প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে ফিলিপাইন। দেশটির এক শীর্ষ কর্মকর্তা একে দক্ষিণ চীন সাগরের ওই এলাকায় ‘শেষ পর্যন্ত দখলদারির’ অজুহাত বলে অভিহিত করেছেন।

চীন গত বুধবার ঘোষণা দেয়, তারা ‘হুয়াংইয়ান দ্বীপের প্রাকৃতিক বাস্তুতন্ত্রের বৈচিত্র্য, স্থিতিশীলতা ও স্থায়ীত্ব রক্ষার জন্য’ একটি অভয়ারণ্য গড়ে তুলবে। হুয়াংইয়ান দ্বীপ নামটি বেইজিংয়ের দেওয়া, যা মূলত ওই বিতর্কিত প্রবালপ্রাচীরের শৃঙ্খলকে নির্দেশ করে।

চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রস্তাবিত অভয়ারণ্যটি আট হাজার ৭০৭ একর এলাকাজুড়ে হবে, যেখানে মূল গুরুত্ব দেওয়া হবে প্রবালপ্রাচীরের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায়।

অন্যদিকে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘চীনের রাষ্ট্রীয় কাউন্সিলের তথাকথিত ‘হুয়াংইয়ান দ্বীপ জাতীয় প্রাকৃতিক অভয়ারণ্য অনুমোদনের কঠোর প্রতিবাদ জানাচ্ছে ফিলিপাইন।’

সংশ্লিষ্ট এলাকায় ফিলিপাইনের সার্বভৌমত্ব রয়েছে দাবি করে বিবৃতিতে আরো বলা হয়েছে, ‘চীনের এই বেআইনি ও অবৈধ পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ফিলিপাইন একটি আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানাবে।’

এ ছাড়া ফিলিপাইনের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এদুয়ার্দো আনো বলেন, এই প্রস্তাবিত অভয়ারণ্য ‘পরিবেশ রক্ষার চেয়ে বরং চীনের ফিলিপাইনের ভূখণ্ডের একটি অংশ দখলদারির যৌক্তিকতা দাঁড় করানোর কৌশল’।

পৃথক এক বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, ‘এটি সুস্পষ্টভাবে ভবিষ্যতে দখলদারির অজুহাত।’

তবে বৃহস্পতিবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছে, ওই এলাকা কখনোই ফিলিপাইনের অংশ ছিল না।

ম্যানিলার অভিযোগ ও প্রতিবাদকে তারা ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র লিন জিয়ান নিয়মিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আমরা ফিলিপাইনকে অবিলম্বে তার অনুপ্রবেশ, উসকানি ও ভিত্তিহীন প্রচার বন্ধ করার আহ্বান জানাই, যাতে সমুদ্রপথের পরিস্থিতিতে নতুন জটিলতা না তৈরি হয়।’

স্কারবোরো শোল ফিলিপাইনের প্রধান দ্বীপ লুজন থেকে ২৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে এবং এর প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দূরে চীনের নিকটবর্তী প্রধান ভূমি হাইনান দ্বীপ অবস্থিত।

চীন পুরো দক্ষিণ চীন সাগরের প্রায় সবটাই নিজেদের বলে দাবি করে, যেখান দিয়ে বিশ্বের ৬০ শতাংশেরও বেশি সামুদ্রিক বাণিজ্য চলাচল করে। যদিও ২০১৬ সালে এক আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে বলা হয়েছিল, চীনের এ দাবির কোনো আইনি ভিত্তি নেই।


Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *